শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, প্রয়োজন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা
গোলাম মুর্শেদ | ২৩ এপ্রিল ২০১৭ | ১১:৩৩

কারখানা দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মালিকদের কত টাকা দেওয়া উচিত, তা নিয়ে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠন, নেতৃবৃন্দ ও বিশেষজ্ঞগণ মত প্রকাশ করেছেন। রানা প্লাজা ভবন ধসে  ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য অন্তত দুটি সংগঠনকে দেখা গেছে তাদের হিসেব অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের সুপারিশ করতে। ক্ষতিপূরণের হার নির্ধারণে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত এক কমিটিও তার সুপারিশ পেশ করেছে। এ সুপারিশমালাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মানদ- হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে কিনা, তা নিয়ে আছে বিভিন্ন মত। একদলের বক্তব্য হলো এটি যথাযথ ও পর্যাপ্ত; আরেকদল মনে করছে এটি পরিমাণে কম এবং হিসেব করার সময় শ্রমিকদের মানসিক ক্ষয়ক্ষতিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি; তৃতীয় পক্ষটির মত হলো : এটি বাস্তবোচিত নয় — এত টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে গেলে নিয়োজকেরা ফতুর হয়ে যাবে।

 

এখন পর্যন্ত এ নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, তা মোটামুটি এ রকম:

  • ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে বিবেচ্য বিষয় কী কেবল শারীরিক ক্ষতি, নাকি মানসিক ক্ষতিও?
  • ক্ষতিপূরণ কিভাবে শ্রমিকের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টিত হবে?
  • সব শ্রমিক কি একই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবে?
  • যদি পরিবারের সদস্য সংখ্যাভেদে ক্ষতিপূরণ ভিন্ন হয়, তাহলে নিঃসন্তান ব্যক্তির ক্ষেত্রে কী হবে?
  • শ্রমিকের জীবনকাল বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিপূরণ হিসেব করা হবে, নাকি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে?
  • ক্ষতিপূরণের অংক যদি নির্দিষ্ট হয়, তাহলে কত বছর পর পর কিভাবে তা পুনর্নিধারিত হবে?
  • ক্ষতিপূরণ হিসেব করার সময় সুদহার বা মুদ্রাস্ফীতিকে বিবেচনায় রাখা হবে?
  • ক্ষতিপূরণ কী কেবল মালিক দেবে, নাকি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ: বিদেশী ক্রেতা, সরকার নাকি ইনস্যুরেন্স কোম্পানি?

 

ক্ষতিপূরণ আদায়ের যে দুই ধরনের লক্ষ্য আছে, তা অর্জিত হতে হলে কেবল টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করাই যথেষ্ট নয়। এ সম্পর্কিত আরো কিছু বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আছে। ক্ষতিপূরণের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করা। এর অর্থ, শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে তাঁর ওপরে নির্ভরশীল পরিবার বা অন্যান্য ব্যক্তিরা যে শারীরিক মানসিক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়, তা টাকার অংকে পুষিয়ে দেওয়া। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো মালিকপক্ষের ওপরে এমনভাবে চাপ তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে কর্তৃপক্ষ ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে সাহস না পায়, যা শ্রমিকদের প্রাণহানি বা জখমের কারণ হয়।

 

সম্ভবত এ কারণে একদল মনে করছে, ক্ষতিপূরণের হার অনেক বড় হওয়া শ্রেয়। আর তাতেই আরেক পক্ষের ভয়। কিন্তুকেন এমনটা ধরে নেওয়া হচ্ছে যে, ফি বছর রানা প্লাজার মতো দুর্ঘটনা বা নিমখুনের ঘটনা ঘটবে এবং ক্ষতিপূরণ দিতে মালিকদের হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে যাবে? ক্ষতিপূরণ তো তখন দিতে হবে, যখন দুর্ঘটনা ঘটবে। দুর্ঘটনা ঘটতে না দিলেই হলো। এজন্য আগেভাগে নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ কর্মস্থল। মনে রাখা ভালো, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম।

 

শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ আদায় করা ছাড়াও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আরো কিছু করার আছে। যেমন: কারখানা পরিদর্শন, বয়লার পরিদর্শন, ভবন নির্মাণে সতর্কতা এবং আগুন নেভানোর ব্যবস্থা রাখা। তাজরীন ফ্যাশনস ও রানা প্লাজার দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা থেকে জানি, যদি সরকারী পরিদর্শক ও কর্মকর্তাগণ তাঁদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতেন, তবে এসব দুর্ঘটনা সহজেই এড়ানো যেত। মালিক ছাড়াও দায়ী বাকি কর্মকর্তা, সরকারি অফিসারদের বিচার করা গেলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর ঘটত না।

 

চাই ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার সংস্কার

১৯২৩ সালে পাশ হয় শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আইন। পরে তা ১৯৭৪ সালে পরিবর্তিত এবং ১৯৮০ সালে সংশোধিত হয়। ২০০৬ সালে শ্রম আইন পাশ হলে ক্ষতিপূরণ আইনটি রহিত হয় এবং তা সংক্ষিপ্ত আকারে নতুন আইনের দ্বাদশ অধ্যায়ে “দুর্ঘটনা জনিত কারণে জখমের জন্য ক্ষতিপূরণ” শিরোনামে সংযোজিত হয়।

 

আইনে বলা হয়েছে, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হলে শ্রমিকের পরিবার এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে। গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হলে পাবে সোয়া এক লাখ টাকা। একজন শ্রমিকের প্রাণের মূল্য মাত্র এক লাখ টাকা ! যে প্রবণতা বা বিবেচনা থেকে বাংলাদেশের আইনপ্রণেতারা এমন বিধান তৈরি করেন, সেটাই ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ বা দুর্ঘটনা ঠেকানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা। শ্রমিকদের প্রাণ ও সত্তা যখন বিবেচিত হয় না, যখন শ্রমিকেরা কেবলই উৎপাদনের যন্ত্র, যখন তারা মানুষ বলেই গণ্য হয় না, তখন তাদের জন্য ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ এক বিরাট জটিলতা।

 

ক্ষতিপূরণ আদায়ের দুই ধরনের উদ্দেশ্যকে যেভাবে প্রকাশ করা হয়, তাতে আসলে কিছু গুরুতর বিষয়কে চেপে যাওয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্তদের এককালীন কিছু টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিয়ে মালিকপক্ষকে ফৌজদারী অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। ক্ষতিপূরণ বুঝে নেওয়ার যে চুক্তি হয়, তার অন্যতম শর্ত থাকে এই যে, গ্রহণকারী জরিমানা প্রদানকারীর বিরুদ্ধে কেনো ফৌজদারী অভিযোগ আনবেন না।

 

কার্যত দুর্ঘটনাকে যতই ‘অপরিকল্পিত ও অবাঞ্ছিত’ বলে দাবি করা হোক না কেন, দেখা যায় বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা কার্যত নিমখুন বা ম্যানস্লটার। কারো ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত অপরাধমূলক বা অবহেলাপূর্ণ কোনো কাজের কারণে যদি ব্যক্তির মৃত্যু হয়, তবে তা নিমখুন বলে গণ্য। ফৌজদারী দ-বিধির ৩০০ ও ৩০৪ নম্বর ধারায় এর বর্ণনা দেওয়া আছে এবং এর শাস্তি বিভিন্ন মেয়াদের কারাদ-। দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়েরের সুযোগ থাকা এজন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, এটা না হলে দায় কেবল মালিকের ওপরেই চাপে, বাকি সংশ্লিষ্টরা পার পেয়ে যান।

 

আইনের সীমাবদ্ধতা:

লক্ষ্যনীয় যে, ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত আলোচনা যতই হোক না কেন, তা শ্রম আইনের ২০০৬ সালের দ্বাদশ অধ্যায়ের বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। অথচ এই আইনটি কেবল ব্যক্তিমালিকানাধীন কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ইপিজেড, সরকারি, আধাসরকারি অথবা নিয়ন্ত্রিত-অনিয়ন্ত্রিত খাতের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান এ আইনের আওতাধীন নয়। এ হিসেবে দেশের মোট শ্রমিকের মাত্র দুই শতাংশ আইনটির আওতাধীন। এ আইনটি সংশোধিত হলেও দেশের বেশিরভাগ শ্রমিক তার সুবিধা পাবে না। এজন্য এমন এক আইন চাই, যেটি দেশের সব শ্রমিককে তার আওতায় আনবে। অর্থাৎ চাই একটি সার্বজনীন আইন। 

 

আইনটির আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো এতে সব দায় মালিকের ওপরে চাপানো হয়েছে। রানা প্লাজা ভবনের ধস, টাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানার বিস্ফোরণ এবং  কালার ম্যাচ বিডি লিমিটেড কারখানার আগুনের ঘটনায় কারখানা মালিক ছাড়াও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, কারখানা ব্যবস্থাপনার অফিসারগণ এবং সুপারভাইজাররা দায়ী। অথচ মালিক এবং রানা প্লাজা ভবনের স্বত্বাধিকারী সোহেল রানা ছাড়া আর কারো বিরুদ্ধে ফৌজদারী আইনে ম্যানস্লটার বা নিমখুনের অভিযোগ আনা হয়নি। কার্যত শ্রম আইনে সব দায় মালিকের ওপরে চাপানোর মধ্যদিয়ে বাকি সুবিধাভোগীদের পরোক্ষভাবে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

 

সবচেয়ে বড় দায়মুক্তি পেয়েছে সরকার। কোন এলাকায় কারখানা গড়ে উঠবে, ভবনের উচ্চতা বা কাঠামো কেমন হবে, ভবনের কোথায় ট্রান্সফরমার ডায়নামো বয়লার বসবে, কারখানার আগুনরোধী ব্যবস্থা কতটুকু মজবুত, সেটির বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা, ভবনের বিকল্প সিঁড়ি কতটুকু প্রশস্ত, প্রবেশ ও বের হওয়ার দরজার সামনে প্রতিবন্ধক আছে কি নেই ইত্যাদি খতিয়ে দেখার জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানই চলতে পারে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বাস্তবতা উল্টো। সরকার জনবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে তার দায় থেকে মুক্তি পেতে পারে না। তাতে লঙ্ঘিত হয় সংবিধান এবং জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের করা ওয়াদা।

 

ক্ষতিপূরণের হার কেমন হতে পারে?

ক্ষতিপূরণের হার নির্ধারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের উদ্যোগকে বিবেচনায় রাখা যায়। ১৯২৩ সালের শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ আইনটিকে বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের মাধ্যমে দেশটি এখনো  যুগোপযোগী ও জারি রেখেছে। আইনটিতে নিহত বা গুরুতর আহত শ্রমিকদের অবশিষ্ট জীবনকাল বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হিসেব করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার পর রায় হতে যত দেরি হবে, সে সময়ে সুদহার হিসেব করে ক্ষতিগ্রস্তকে দেওয়ারও বন্দোবস্ত আছে।

 

বাংলাদেশের শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সামাজিক পারিবারিক অবস্থা এবং মালিকদের (বেশিরভাগ) সক্ষমতা বিবেচনা করে ক্ষতিপূরণের মাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এটা জাতীয় ফেডারেশন ও এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের মধ্যে যৌথ দরকষাকষির মাধ্যমে ঠিক হতে পারে। সরকার, আইএলও বা শ্রম ইনস্টিটিউটগুলো এতে মধ্যস্থতা করতে পারে।

 

তবে ক্ষতিপূরণের জন্য

  • হয় একটি সার্বলৌকিক শ্রম আইন প্রণয়ন করতে হবে, নয়তো ক্ষতিপূরণ বিষয়ে এক পৃথক আইন করতে হবে, যা নিয়ন্ত্রিত-অনিয়ন্ত্রিত সব খাতের শ্রমিকদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে
  • ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কত বছর পর পর কিভাবে পুননির্ধারিত হবে, সে ব্যবস্থাটি শুরু থেকে আইনের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে
  • ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে শ্রমিকদের শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি নয়, মানসিক ক্ষয়ক্ষতিকেও বিবেচনায় নিতে হবে
  • ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এমন হওয়া উচিত, যাতে মৃত শ্রমিকের পরিবারটি রোজগারকারীর অবর্তমানে অন্তত আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে বা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা পায়
  • ক্ষতিপূরণ দিয়ে পার পাওয়া নয়, বরং মালিক ও সংশ্লিষ্টদের কারাদ-ের মতো গুরুতর শাস্তি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে
  • জরিমানা ও কারাদ-ের পরিমাণ এমন হওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কোনো অবহেলা বা অসাধুতার আশ্রয় নিয়ে কর্তৃপক্ষ এমন কোনো কর্মস্থল না বানায়, যাতে শ্রমিকদের জীবন বিপন্ন হতে পারে
  • যেহেতু ক্ষতিপূরণ হিসেব করার সময় সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরি বিবেচ্য হচ্ছে, তাই মজুরির হার যেন পর্যাপ্ত হয়, সেটি নিশ্চিত করা
  • কোম্পানির ইন্সুরেন্স সংক্রান্ত ধাপ্পাবাজি বন্ধ করতে হবে। হাজার শ্রমিকের কারখানায় মাত্র ২০ জনের জন্য ইন্সুরেন্স করে বাকিদের ইন্সুরেন্সের বাইরে রাখার মতো অপকর্ম চলতে দেওয়া অনুচিত।
  • কেবল মালিক নয়, ফরমায়েশকারী (বায়ার), পরিদর্শন কর্মকর্তা, কারখানার অফিসার ও সুপারভাইজারবৃন্দ এবং ঘটনার জন্য দায়ী বাকি সংশ্লিষ্টদের ওপরে দায় চাপাতে হবে। 

 

জানমাল রক্ষা করবে বলে রাষ্ট্র জনগণকে যে আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতি দেয় এবং যার বিনিমনে জনগণের কাছ থেকে রাষ্ট্র নিরঙ্কুশ আনুগত্য আদায় করে, তা ভূলুণ্ঠিত হয়ে যায়, যখন কাতারে কাতারে শ্রমিক তাদের কর্মস্থলে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারায়, পঙ্গু হয়ে যায় বা শিকার হয় গুরুতর জখমের। শ্রমিকেরা নিরাপদ থাকবে কি না, সেটি প্রকৃতপক্ষে নির্ভর করে রাষ্ট্রের বা তার পরিচালন কর্তৃপক্ষ সরকারের ইচ্ছার ওপরে। সরকার চাইলে আজই সব কর্মস্থলকে নিরাপদ-নিশ্চিত করে তুলতে পারে। আর না চাইলে শত বছরেও তা সম্ভব নয়। তবে সরকারের ওপরে চাপ অব্যহত রাখার দায়িত্ব ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশনগুলোর। অবশ্য শতধা বিভক্ত হয়ে তারা সে দায়িত্ব কতটুকু পালন করতে পারবে, তা বলা খুব মুশকিল।

 

* সদস্য, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)