দিনাজপুরের যমুনা চালকলে বয়লার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় বাশির নিন্দা ও ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ এপ্রিল ২০১৭ | ০৪:০৪

গত ১৯ এপ্রিল বুধবার দুপুরে দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের শেখহাটি গোপালগঞ্জে যমুনা অটো রাইস মিলে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাশির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ও সম্পাদক। বিবৃতিটি নিচে দেওয়া হলো:

 

দিনাজপুরের যমুনা চালকলে বয়লার বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় বাশির বিবৃতি

 

বিবৃতি। ২৪ এপ্রিল ২০১৭

 

গত ১৯ এপ্রিল বুধবার দুপুরে দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের শেখহাটি গোপালগঞ্জে যমুনা অটো রাইস মিলে ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণে আহত হয়ে আজ সোমবার পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। প্রাণ সংশয়ে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আছেন আরো অন্তত পাঁচ শ্রমিক। বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি) এ ঘটনায় নিন্দা, ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করছে। অতীতে এ ধরনের ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় এবং বয়লার পরিদর্শন কাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফেলতিকে এ ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করে বাশি।

 

সংবাদমাধ্যমে সূত্রে জানা গেছে, ওই চালকলের বয়লার ছিল পুরানা ও মেয়াদোত্তীর্ণ। বয়লারের কিছু যন্ত্রাংশ যে বিকল হয়ে পড়ছে, তা শ্রমিকেরা মালিক সুবল ঘোষকে কিছুদিন আগে অবহিত করলেও তিনি ব্যবস্থা নেননি, এমনকি গরিমসি করে সময়ক্ষেপণ করছিলেন বলে অভিযোগ করেছে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের আত্মীয়রা। বয়লার সংক্রান্ত আইন পুরোপুরি অমান্য করে, শ্রমিকদের জীবনকে বিপন্ন করে কিভাবে একটি চালকল দিনের পর দিন এভাবে চলছিল, তা যথাযথভাবে তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন।

 

এ দুর্ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, শ্রমিকদের জন্য সুষ্ঠু ও নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করা নিয়ে যত তোড়জোড় হয়েছে, তা কেবল কথাতেই, কাজে নয়। ইদানিং কিছু পোশাক কারখানাকে ‘নিরাপদ কর্মস্থল’ করতে উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, অথচ আদর্শ কর্মস্থলের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য শর্ত যেমন: কারখানা পরিদর্শন, ট্রেড ইউনিয়ন চর্চার সুযোগ, জবরদস্তিমূলক কাজ বন্ধ করা, শিশুশ্রম নির্মূল, কর্মস্থলে বৈষম্য দূরীকরণ ইত্যাদি বিষয়ে অগ্রগতি নেই বললেই চলে। বাশি মনে করে, এসব শর্ত নিশ্চিত করার সঙ্গে কর্মস্থলকে নিরাপদ করার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

 

গেল বছর সেপ্টেম্বরে টঙ্গীর ট্যাম্পাকো ফয়েলস কারখানার বয়লার বিস্ফোরণে প্রায় ৪০ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার পরও বিভিন্ন স্থানে বয়লার বিষয়ে অসর্তকতা বা গাফেলতি থেকে গেছে এবং গত সাত মাসে অন্তত ৮-১০টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসবের মধ্যে গাজীপুরের পূবাইলে ‘স্মার্ট মেটাল অ্যান্ড কেমিক্যাল লিমিটেড’ কারখানার বয়লার বিস্ফোরণের ৭ জন, নারায়নগঞ্জের কাঁচপুরে আলীরাজ ওয়ার্কশপের বয়লার বিস্ফোরণের তিন জন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে নির্মাণাধীন ফিডআপ এ্যাগ্রো ফুড কোম্পানির বয়লার বিস্ফোরণে একজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন প্রাণঘাতী ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটার অর্থ হলো দীর্ঘ আলোচনা ও ব্যয়সাধ্য প্রচার শ্রমিকদের নিরাপদ ও শোভন কর্মস্থল নিশ্চিতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

 

যখন পর্যন্ত নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করা না যায়; তখন পর্যন্ত শ্রমিক সংগঠন, সরকার, মালিকপক্ষ, সাহায্য সংস্থা বা শ্রম ইনস্টিটিউটগুলোর কৃতিত্ব জাহির করা যেমন সাজে না, তেমনি তাদের কাজও ফুরিয়ে যায় না। বরং নতুন উদ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতায় পরিকল্পিত উপায়ে কাজ করার অবশ্যকতা দেখা দেয়।

 

বাশি আশা করে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে; কর্মস্থল হবে নিরাপদ ও শোভন যাতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে; ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকেরা যথাযথ ক্ষতিপূরণ পেতে হেনস্তা বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার শিকার হবেন না এবং শ্রমিক পুনর্বাসন বা দুর্ঘটনা এড়াতে গৃহীত হবে দূরদর্শী ও দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প।

 

শাহ্ আতিউল ইসলাম (সভাপতি) ও

অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম (সম্পাদক)

ট্রাস্টি বোর্ড,

বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)