অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ অক্টোবর ২০১৮ | ০৫:৪৮
বক্তব্য রাখছেন শাহ্ আতিউল ইসলাম। ছবি: বাশি

বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)-র প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের  (২৯ নভেম্বর ১৯৪৯ - ২৬ মে ২০১৭) প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

২৬ মে ২০১৮ তারিখে ঢাকার তোপখানা রোডের নির্মল সেন অডিটোরিয়ামে ‘কর্মে ও স্মৃতিতে আবদুস সালাম’ শিরনামের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাশির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি শাহ্ আতিউল ইসলাম।

 

কমরেড আবদুস সালামের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাশির নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক প্রিসিলা রাজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট নেসার আহমেদ, অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, বাশির নির্বাহী কমিটির সদস্য শামীম ইমাম, বাশির অন্যতম ট্রাস্টি গোলাম মুর্শেদ প্রমুখ।

 

উদ্বোধনী ভাষণে সভাপতি আতিউল ইসলাম আবদুস সালামের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তা ও তাতে সক্রিয় অংশগ্রহণ, স্বাধীনতার পরও গুণগত বৈশিষ্ট্যসহ ঔপনিবেশিক আইন ও প্রশাসনের টিকে থাকার সমস্যাকে চিহ্নিতকরণ এবং দেশের মুক্তির জন্য শ্রমিক-কৃষকসহ সব নাগরিকের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ওপরে গুরুত্বারোপের কারণে কমরেড সালামের চিরস্মরণীয় ও অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন।

 

আতিউল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের দাবিতে চলমান আন্দোলন তখনই সফল হতে পারে যখন  সেসব দাবির সাথে কৃষক-শ্রমিকের দাবি ঐক্যবদ্ধ হবে।

 

শ্রমিকদের দলে উপদলে বিভক্ত রাখার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা [শ্রমিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ ও তাদের নেতারা] সবাই শ্রমিক কৃষকদের মুক্তির কথা বলছি। এজন্য দরকার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। যদি সত্যিই আমরা কৃষক-শ্রমিকের মুক্তির কথা বলে থাকি, তাহলে আমরা কেন তাদের ঐক্যবদ্ধ না করে বিভিন্ন সংগঠনে বিভক্ত করে রাখছি?’

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবিদাওয়ায় খুব বেশি ভিন্নতা নেই, তাই এ ধরনের বিভক্তি আর কাম্য নয়।’

 

অ্যাডভোকেট নেসার আহমেদ বলেন, ‘কমরেড আবদুস সালাম জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। তিনি দেখেছিলেন, দেশের অধিকাংশ জনগণ শ্রমিক। তাই দেশের উন্নতি করতে হলে শ্রমিকদের জীবন ও চেতনার উন্নতি করতে হবে। এ অনুধাবন থেকে তিনি তাঁর আর দশটা কাজের ফাঁকে বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি) দাঁড় করানোর উদ্যোগ নেন। আমি বলব এটা এক বিশাল কাজ।’

 

নেসার আহমেদ বলেন, ‘আবদুস সালাম তাঁর চিন্তা ও কাজের মধ্যদিয়ে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। এ ইতিহাস গড়ার কাজ করে তিনি আমাদের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন।’

 

আবদুস সালামের ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে নেসার আহমেদ বলেন, ‘আবদুস সালাম মনে করতেন, মুক্তি লাভের জন্য প্রথমে মানুষ হতে হবে। তিনি নিজে সহজ, সরল ও দৃঢ় বিশ্বাসী মানুষ ছিলেন। তিনি এমন একটি জনসমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, যেখানে প্রকৃত অর্থে ব্যক্তিগত মালিকানা থাকবে না। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে এ বিশ্বাসের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। এ জন্য তিনি ঐকান্তিকভাবে কাজ করতেন। আইনজীবী হিসেবেও তিনি অনেক সফল আইনজীবী ছিলেন। তিনি যে কেবল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুরিসপ্রুডেন্সে মাস্টার্স করে এসেছেন, তাই নয়, নিজের জীবনে আইনের মূল ধারণাটিকে গ্রহণ করতে পেরেছিলেন।’

 

অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের রাজনৈতিক তৎপরতার বিশেষত্ব আলোচনা করতে গিয়ে নেসার আহমেদ বলেন, ‘সালাম ভাই বারবার নতুন দল করছেন। তিনি দেখছেন, কর্মসূচি গ্রহণ ও চর্চা করার পরও সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানো যাচ্ছে না। যাঁদের ওপরে তিনি ভরসা করছেন, তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। এ কারণে তাঁকে পথ-অনুসন্ধান করতে হয়েছে। দেশ ও সমাজের পরিস্থিতিকে বোঝার জন্য বারবার নতুন উদ্যোগ নিতে হয়েছে। এক সময় তিনি অনুধাবন করেছেন যে, বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক সংবিধান দরকার এবং এজন্য কাজ করা দরকার। প্রচলিত চিন্তা কাঠামো, রাষ্ট্রীয় আইনকানুনের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে জনগণের অধিকার আদায়ে উদ্যোগ নেওয়া দরকার। তাই তিনি আইন পেশা ছেড়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে মনোযোগ দেন। 

 

কমরেড সালামের ব্যক্তিগত দৃঢ়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আবদুস সালাম মতামত ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করতেন, কিন্তু নিজের মত অন্যের ওপরে চাপিয়ে না দিয়ে অন্যকে বোঝানোর চেষ্টা করতেন।’

 

আবদুস সালাম প্রসঙ্গে নেসার আহমেদ আরো বলেন, ‘কমরেড সালাম সময় ও সমাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন সংগঠন গড়ে তুলেছেন। তিনি এক সময় গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি গড়ে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দেখেছেন, তাতে কাজ হচ্ছে না। অথচ তিনি এরপরও হাল ছাড়েননি। তিনি চেষ্টা করে গেছেন। আমরা দেখেছি, তিনি সবসময় চিন্তা করতেন, চেষ্টা করতেন যে কিভাবে লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। এ জন্য তিনি রীতিমতো সাধনা করতেন। যে মানুষ এমন সাধনা করতে পারেন, তিনি নিঃসন্দেহে একজন সফল মানুষ, বড় মাপের মানুষ।’

 

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ বলেন, আবদুস সালাম সবসময় চেষ্টা করেছেন শ্রমিক ঐক্য তৈরি করতে। শ্রমিকস্বার্থের বাইরে বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে শ্রমিকদের মধ্যে বিভক্তি তৈরির যে ধারা বাংলাদেশ প্রচলিত আছে, আবদুস সালাম বরাবরই থেকেছেন বিপরীতে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে আদর্শ ও কর্মসূচি নিয়ে ভিন্নতা থাকলেও তিনি সবসময় ভাবতেন কিভাবে ন্যূনতম ইস্যুতে সংগঠনগুলোকে একত্রিত করে কাজ করা যায়।

 

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের দিকে আবদুস সালামের সক্রিয় উদ্যোগে ও নেতৃত্বে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য গঠিত হয় শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। যার সেক্টরভিত্তিক সংগঠন গার্মেন্ট শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ২০১০ সালে গাজীপুর ও ঢাকায় ব্যাপক শ্রমিক আন্দোলন ও ধর্মঘট সংগঠিত হয় এবং যার প্রভাবে সরকার বাধ্য হয় গার্মেন্ট শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে।

 

শবনম হাফিজ বলেন, একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে আবদুস সালামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল চিন্তাকে কাজে পরিণত করা। তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা করতেন, এবং সেগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করতেন।

 

কমরেড সালাম কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি শ্রমিক-কৃষক সংগঠন গড়ে তুলেছেন, শ্রমিক আন্দোলনের সহযোগী সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট স্থাপন করেছেন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন গণসংগঠন ও এনজিওসমূহের সাথে মৈত্রী গড়েছেন। তিনি নিজে যেমন এসবের সাথে যুক্ত হয়েছেন, তেমনি শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনে জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও বুদ্ধিজীবীদের যুক্ত করেছেন। এর ফলে শ্রমিক আন্দোলন ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে জাতীয় রাজনীতির অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ব্রিটিশ কলোনি ছিল এমন দেশগুলোর অধিকাংশ জনগণের মধ্যে এ ধারণা আছে যে, ব্রিটিশেরা যে আইন প্রণয়ন করেছিল, তা ছিল সর্বোৎকৃষ্ট। অথচ এসব দেশের বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও জনগণের দুর্ভোগের মূল কারণ নিহিত আছে ব্রিটিশদের আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে। অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম এ সমস্যাটিকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন এবং ব্রিটিশ আইন ও তার অনুসরণে প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান বা শাসনতন্ত্র পরিবর্তনের কথা তুলেছিলেন।

 

হাসনাত কাইয়ুম বলেন, বাংলাদেশের মার্কসবাদী রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ সাধারণত রাজপথের লড়াইয়ের বাইরে আইনী লড়াইয়ের বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেননি। কিন্তু আবদুস সালাম এ সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আইনী লড়াইয়ের স্পর্ধা দেখিয়েছেন।

 

তিনি আরো বলেন, জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে দেশের আইন ও শাসনতন্ত্র পরিবর্তনের জন্য একটি রাজনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং সে লক্ষ্য অর্জনের জন্য কর্মকৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে আবদুস সালাম বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

 

হাসনাত কাইয়ুম এ বলে উপসংহার টানেন যে, দিনপরিবর্তনের রাজনীতি যত সামনে আসবে আবদুস সালাম তত বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবেন।

 

জাতীয় গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিষদের সদস্য শামীম ইমাম বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আবদুস সালামের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর গণতান্ত্রিক চিন্তা ও আচরণ। তিনি সবসময়ই ভিন্নমতকে উৎসাহিত করতেন এবং সংগঠনের ভেতরে ভিন্নমত চর্চার সুযোগকে অবারিত রাখতেন। তিনি মানুষ হিসেবে কেবল সহজ-সরলই ছিলেন না, তাঁর সাথে যেকোনো বয়সের মানুষেরাই সহজে মেশার সুযোগ পেত, ছোট-বড় সকলেই তাঁর সাথে রাজনৈতিক তর্ক জুড়ে দিতে পারত এবং তিন ধৈর্য্য ধরে সবার কথা শুনে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করতেন। অন্যের যুক্তি সঠিক হলে, তিনি মেনে নিতে কুণ্ঠা করতেন না।

 

শামীম ইমাম বলেন, আবদুস সালাম পেশায় ছিলেন আইনজীবী। অথচ এ কারণে তিনি রাজনৈতিক তৎপরতায় কারো চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন না। ২০১০ সালের আন্দোলনের সময় যখন শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আদালতে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা দায়ের হয়, তখন আবদুস সালাম তাঁর পেশাগত কর্তব্যপরায়নতার পরিচয় দিয়েছেন। দেখা গেছে, শ্রমিক নেতারা ও তাঁদের উকিলেরা মামলার তারিখ ও সময় গুলিয়ে ফেললেও সালাম ভাই ঠিকই প্রতিটি আদালতে সময়মত হাজির হয়েছেন এবং এতগুলো মামলা কে, কিভাবে চালাবে, সেটি নির্ধারণ করেছেন। এ জন্য তাঁকে কারো অনুরোধও করতে হয়নি, নির্দেশও দিতে হয়নি।

 

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আইন ও গণতান্ত্রিক সংবিধানের প্রয়োজনীয় প্রশ্নটি উত্থাপন করার কারণে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

 

শামীম ইমাম আরো বলেন, আবদুস সালাম ছিলেন স্থায়ী পরিবর্তনের আকাক্সক্ষী। তিনি চেয়েছেন, রাজনৈতিক ঐক্যের বাইরে শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যেও ঐক্য গড়ে উঠুক। এজন্য মানুষের বিপ্লবী পরিবর্তনের কথা বলেছেন তিনি, শ্রমিকদের সচেতন মানুষ হয়ে উঠবার ওপরে গুরুত্বারোপ করেছেন।

 

বাশির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি গোলাম মুর্শেদ বলেন, আবদুস সালাম তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও জ্ঞানের কারণে এটা বুঝেছিলেন যে, বিদ্যামান শোষণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করতে হলে, বিপ্লব করতে হলে, কেবল রাজনৈতিক সংগঠন ও সংগ্রাম যথেষ্ট নয়, বরং বিভিন্ন গণসংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজন। এ কারণে তিনি যেমন বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকেছেন, তাদের সাথে নিয়ে কাজ করেছেন, তেমনি দেশ ও সমাজের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য এসব সংগঠনকে কাজে লাগাবার কথাও বলেছেন।

 

তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের বিকাশ ও বিস্তারে কেবল ট্রেড ইউনিয়নবাদী আন্দোলন যথেষ্ট নয়। শ্রমিকদের জ্ঞানচর্চা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনেরও দরকার আছে। আবার শ্রমিক আন্দোলনকে বুদ্ধিবৃত্তিক রসদ যোগাবার দায়িত্ব আছে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের। এ লক্ষ্যে তিনি বাশি গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন।

 

গোলাম মুর্শেদ বলেন, আবদুস সালাম আমাদের দেশের রাজনৈতিক ও শ্রমিক-কৃষক সংগঠকদের সমালোচনা করতেন এই বলে যে, তাঁরা ‘আগামীকালের কাজ বাদ দিয়ে পরশুর কর্মসূচি পালন করা শুরু করে।’ এ অতিউৎসাহী প্রবণতার কারণে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং সংগঠকেরা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

 

সভাপতির ভাষণে বাশির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ও ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি শাহ্ আতিউল ইসলাম বলেন, আবদুস সালাম ছিলেন শ্রমিকের প্রকৃত বন্ধু। তিনি আমৃত্যু শ্রমিকদের জন্য কাজ করে গেছেন এবং তাদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন।

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা আলোচনা করে শাহ্ আতিউল ইসলাম বলেন, আবদুস সালাম শুধু শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেই ক্ষান্ত হননি, শ্রমিকদের চূড়ান্ত সমস্যা সমাধানে শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। কারণ আবদুস সালাম বিশ্বাস করতেন, শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি জনতা যদি দেশের রাজনৈতিক অবস্থার ওপরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, তাহলে তাদের মুক্তি সম্ভব নয়।

 

তিনি বলেন, আবদুস সালাম তাঁর চিন্তা ও কাজের মধ্যদিয়ে আমাদের পথ দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। এখন বাকিদের কাজ হলো, তাঁর কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।