নিয়োগপত্র, সার্ভিস বই, মাতৃত্বকালীন ছুটি দিতে অনিয়ম বহু কারখানায়
নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ অক্টোবর ২০১৮ | ১৬:২৭
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে শুক্রবার বাশির আয়োজিত শ্রম আইন বিষয়ক কর্মশালায় উপস্থিত প্রশিক্ষক ও অতিথিবৃন্দ। বাম দিক থেকে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের উপদেষ্টা শামসুন্নাহার জোৎস্না, শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন

দেশের বহু কারখানায় শ্রমিকেরা নিয়োগপত্র, সার্ভিস বই ও মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো প্রাথমিক অধিকারগুলো থেকে বঞ্চিত। শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে এসব হলো চাকরির আবশ্যকীয় শর্ত। কর্মক্ষেত্রে আইনটি যে সঠিকভাবে অনুসৃত হচ্ছে না, তা এসব ঘটনার মধ্যদিকে প্রমাণিত হয়। শ্রম আইন উপেক্ষিত হওয়ার এই চিত্রটি উঠে এসেছে বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি) আয়েজিত এক কর্মশালায়।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ শুক্রবার শ্রম আইন বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালাটি আয়োজিত হয়। এতে বিভিন্ন এতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্য ও শ্রমিক সংগঠকেরা উপস্থিত ছিলেন।

 

কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক শামীম ইমাম ও বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিষদের সদস্য গোলাম মুর্শেদ।

 

সকাল ১০টায় কর্মশালার উদ্বোধনী ঘোষণা করেন বাশির নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক প্রিসিলা রাজ। বাশির নির্বাহী কমিটির সভাপতি শাহ্ আতিউল ইসলাম বিকালে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।

 

শ্রম আইন বিষয়ক বাশির ধারাবাহিক কর্মশালার প্রথম ধাপে আজ আইনটির নিয়োগ ও চাকরির শর্তাবলী, মজুরি, ছুটি, শ্রমিক কর্তৃক চাকরির অবসান, মালিক কর্তৃক চাকরির অবসান, ভবিষ্য তহবিল, গ্রাচুইটি এবং অভিযোগ পদ্ধতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং এসব আইন প্রয়োগে বাস্তব সমস্যা অনুসন্ধান করা হয়। প্রশিক্ষক ও শ্রমিকদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে আইন বিষয়ে শিক্ষা এবং তার প্রায়োগিক সমস্যা চিহ্নিত করা হয়।

 

অংশগ্রহণকারী শ্রমিকরা জানান, তারা পরিচয়পত্র পেলেও সার্ভিস বই বা শ্রমিক রেজিস্টার কখনো হাতে পাননি। কেবল বায়াররা পরিদর্শনে এলে তাদের হাতে সার্ভিস বই দেওয়া হয়, যা তারা নিজ খরচে কপি করিয়ে রাখতে চাইলেও তাদের করতে দেওয়া হয়নি। যা শ্রম আইনের পুরোপুরি বরখেলাপ।

 

আবার শ্রমিকেরা জানান, তাঁরা মাতৃত্বকালী ছুটি চার মাসের বদলে এখনো তিন মাস করেই পাচ্ছেন। বেশি কিছু দাবি করলে চাকরি হারাতে হয় বলেও তাঁরা জানান।

 

শতকরা ৮০ জন শ্রমিক জানান, তাঁরা নিজেরা কখনো শ্রম আইন পড়েননি বা কেউ তাঁদের পড়তে বলেননি। এমনকি তাঁরা আইনটি দেখেননি পর্যন্ত।

 

কর্মশালা শেষে অধিকাংশ শ্রমিক জানান, ছুটি, ওভারটাইম এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে চাকরির অবসানে তাঁরা কি ধরনের সুবিধা পেতে পারেন বা কি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, তা জানতে আইনটি পড়া ও জানা প্রয়োজন। এ ধরনের কর্মশালার নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন বলেও তাঁরা মত দেন।