করোনা পরিস্থিতিতে করণীয় প্রসঙ্গে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বরাবর বাশির প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ এপ্রিল ২০২০ | ০৫:৫৮


মাননীয়
প্রতিমন্ত্রী,
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার,
বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।

বিষয়: করোনা পরিস্থিতিতে করণীয় প্রসঙ্গে বাশির প্রস্তাব

মহোদয়,
করোনা রোগের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গণমানুষের জীবন বাঁচাতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সংবাদকর্মী, ব্যাংকিং সেবাকর্মী, বিক্রয় ও বিপণন কর্মী, বেকারি ও হোটেল শ্রমিকসহ লাখ লাখ শ্রমিক সেবা দিয়ে চলেছেন।

যে সরকারি শ্রমিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে এবং তাঁদের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হলে বা রোগে-ভুগে মারা গেলে বিশেষ অর্থসহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এটা খুবই যথাযথ ও ইতিবাচক উদ্যোগ। অথচ পরিতাপের বিষয় যে, নিয়ন্ত্রিত (ভড়ৎসধষ) ও অনিয়ন্ত্রিত (রহভড়ৎসধষ) খাতের আরো লাখ লাখ বেসরকারি শ্রমিক করোনাকালে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে গেলেও তাঁদের জন্য অর্থসহায়তার প্রতিশ্রুতি অনুপস্থিত।

দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যহত রাখতে যে পোশাক শ্রমিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কারখানায় কাজ করছেন এবং যে প্রবাসী শ্রমিকেরা কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে অর্থনীতিকে নিত্য পরিপুষ্ট করছেন, তাঁদের জন্যও নেই কোনো প্রণোদনা, নেই ক্ষতিপূরণ বা অর্থসহায়তার আশ^াস।

আমাদের প্রস্তাব হলো:

(১) দেশের মানুষের জীবন বাঁচাতে, তাদের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে এবং দেশের শিল্প  ও অর্থনীতির স্বার্থে শ্রমিকেরা, বিশেষত গার্মেন্টখাতের কর্মীরা, অত্যন্ত বিপজ্জনক জেনেও করোনাকালে কাজ করে চলেছেন। তাদের জন্য অবিলম্বে সরকারি শ্রমিকদের অনুরূপ ক্ষতিপূরণ, বীমা বা অর্থসহায়তার স্কিম চালু করা হোক।
(২) এমন ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে কাজ করছেন যে শ্রমিকেরা, তাদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করা হোক।
(৩) করোনা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের যে শ্রমিকেরা প্রবাসে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বা অর্থকষ্টে ভুগছেন, দ্রুত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের খুঁজে বের করে তাঁদের কাছে খাবার ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
(৪) পোশাক কারখানা ও অন্যান্য শ্রমঘণ কর্মস্থলে শ্রমিকদের নিয়োজকদের পক্ষ থেকে সুরক্ষা পোশাক বা পিপিই দিতে হবে এবং পালাভিত্তিক (ংযরভঃ) কাজের ধরনটি নিশ্চিত করতে হবে।
(৫) শ্রমিক এলাকাগুলোতে সুলভে ও দ্রুত করোনা পরীক্ষার সুবন্দোবস্ত থাকতে হবে। দূরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হলে অনেকেই ডাক্তার বা হাসপাতালকে অবহিত করবে না। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে।
(৬) করোনাকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মীর মতো অতিজরুরি সেবাপ্রদানকারী শ্রমিকদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশের শ্রমিক-পেশাজীবী মানুষদের শ্রম ও দায়িত্বশীলতা বিবেচনা করে আমাদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে আপনি ও মন্ত্রণালয় দ্রুত উদ্যোগী হবেন, এ আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।

ধন্যবাদসহ,
 
শাহ্ আতিউল ইসলাম,
সভাপতি, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)

পিডিএফ :

https://drive.google.com/file/d/1iAeiULjGYvJbjd_y8BDQGBl4vEKh9v9n/view?usp=sharing

ওয়ার্ড:

https://drive.google.com/file/d/1-bkkqqu-wUlEYLERxxDwLFGcwwk2XJ11/view?usp=sharing