করোনা পরিস্থিতে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতি বাশির খোলা চিঠি
বাশি | ৩০ এপ্রিল ২০২০ | ০২:৫১

করোনা পরিস্থিতে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন, ক্রাফট ইউনিয়ন, জাতীয়  ফেডারেশন ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতি বাশির খোলা চিঠি
করোনা পরিস্থিতির কারণে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে আজ শ্রমিক শ্রেণি। কর্মহীনতা, চিকিৎসার অভাব, অর্থাভাব ইত্যাদি প্রকট হয়ে চলেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ হারাচ্ছে ক্রয়ক্ষমতা, বিপর্যস্ত হচ্ছে হাজার পরিবার। অপর্যাপ্ত আহার অপুষ্টির সমস্যাকে প্রকট করে তুলছে। এতে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের করোনাসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধালাভে শ্রমিকেরা বরাবরই বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার। বৈশ্বিক দুর্যোগে এ পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। দমন-পীড়ন বেড়েছে শ্রমিকদের আন্দোলন ও প্রতিবাদের ওপরে।

বাশি বিশ্বাস করে জাতীয় ও দেশীয় অর্থনীতির বিকাশে মালিক-শ্রমিক উভয়ের সমান অংশগ্রহণ থাকলেও নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে শ্রমিকদের ভূমিকা না থাকায়, যে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষা তাদের পাওয়া উচিত, তা তারা পাচ্ছে না। এ জন্য ইউনিয়ন ও ফেডারেশনগুলোর উচিত সরকারের কাছে দাবি জানানো, দাবি আদায়ে ন্যায়সঙ্গত চাপ তৈরি করা এবং দাবির যথার্থতা সবার কাছে তুলে ধরা।

 

সার্বিক পরিস্থিতি আজ ইউনিয়ন ও ফেডারেশনগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করেছে পারস্পরিক সংহতি বৃদ্ধি, নীতিগত ও আদর্শিক তফাৎ কমানো এবং যৌথ তৎপরতাকে বিস্তৃত করার। সংগঠনগুলো নিশ্চয়ই তার সদ্ব্যবহার করবে। আমরা মনে করি, এসবের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে শ্রমিকদের স্বার্থের প্রতিফলন ঘটাতে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি নিয়মিতভাবে সরকারের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। এসব দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যম এবং সংগঠনগুলোর ওয়েবসাইটে প্রচার করলে তা জনমত তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

 

গতকাল ২৯ এপ্রিল ২০২০ বাশি করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর কাছে কিছু প্রস্তাব পেশ করেছে। এসব দাবি বা প্রস্তাবকে যথাযথ মনে হলে আপনারাও তা সরকার বা মালিকপক্ষের কাছে তুলে ধরতে পারেন। বহু পক্ষ থেকে প্রায় একই রকম দাবি উত্থাপিত হলে তা আদায়ের সম্ভাবনাও বাড়ে। তাছাড়া পেশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন দাবিও তোলা দরকার। সেসবের জন্যও অবাধ ও লাগাতার প্রচার প্রয়োজন।

 

গতকাল বাশি শ্রম প্রতিমন্ত্রী বরাবর যে দাবি পেশ করেছে, তা এখানে জুড়ে দেওয়া হলো। এটি আপনারা বাশির ওয়েবসাইটেও (www.bashibd.com) পাবেন।

 

আমরা আশা করি, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে, আপনি / আপনারা দ্রুত উদ্যোগী হবেন।

 

ধন্যবাদসহ,

 Shah-atiul-Islsm-signature-.jpg

শাহ্ আতিউল ইসলাম,

সভাপতি, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)

 

-------------------------------------------------------------------

 

 

 

সংযুক্তি

 

২৯ এপ্রিল ২০২০

 

 

মাননীয়

প্রতিমন্ত্রী,

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়,

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার,

বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।

 

বিষয়: করোনা পরিস্থিতিতে করণীয় প্রসঙ্গে বাশির প্রস্তাব

 

মহোদয়,

করোনা রোগের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গণমানুষের জীবন বাঁচাতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সংবাদকর্মী, ব্যাংকিং সেবাকর্মী, বিক্রয় ও বিপণন কর্মী, বেকারি ও হোটেল শ্রমিকসহ লাখ লাখ শ্রমিক সেবা দিয়ে চলেছেন।

 

যে সরকারি শ্রমিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে এবং তাঁদের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হলে বা রোগে-ভুগে মারা গেলে বিশেষ অর্থসহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এটা খুবই যথাযথ ও ইতিবাচক উদ্যোগ। অথচ পরিতাপের বিষয় যে, নিয়ন্ত্রিত (formal) ও অনিয়ন্ত্রিত (informal) খাতের আরো লাখ লাখ বেসরকারি শ্রমিক করোনাকালে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে গেলেও তাঁদের জন্য অর্থসহায়তার প্রতিশ্রুতি অনুপস্থিত।

 

দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যহত রাখতে যে পোশাক শ্রমিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কারখানায় কাজ করছেন এবং যে প্রবাসী শ্রমিকেরা কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে অর্থনীতিকে নিত্য পরিপুষ্ট করছেন, তাঁদের জন্যও নেই কোনো প্রণোদনা, নেই ক্ষতিপূরণ বা অর্থসহায়তার আশ্বাস।

 

আমাদের প্রস্তাব হলো:

 

(১) দেশের মানুষের জীবন বাঁচাতে, তাদের জন্য একান্ত প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে এবং দেশের শিল্প  ও অর্থনীতির স্বার্থে শ্রমিকেরা, বিশেষত গার্মেন্টখাতের কর্মীরা, অত্যন্ত বিপজ্জনক জেনেও করোনাকালে কাজ করে চলেছেন। তাদের জন্য অবিলম্বে সরকারি শ্রমিকদের অনুরূপ ক্ষতিপূরণ, বীমা বা অর্থসহায়তার স্কিম চালু করা হোক।

(২) এমন ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে কাজ করছেন যে শ্রমিকেরা, তাদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করা হোক।

(৩) করোনা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের যে শ্রমিকেরা প্রবাসে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বা অর্থকষ্টে ভুগছেন, দ্রুত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের খুঁজে বের করে তাঁদের কাছে খাবার ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

(৪) পোশাক কারখানা ও অন্যান্য শ্রমঘণ কর্মস্থলে শ্রমিকদের নিয়োজকদের পক্ষ থেকে সুরক্ষা পোশাক বা পিপিই দিতে হবে এবং পালাভিত্তিক (shift) কাজের ধরনটি নিশ্চিত করতে হবে।

(৫) শ্রমিক এলাকাগুলোতে সুলভে ও দ্রুত করোনা পরীক্ষার সুবন্দোবস্ত থাকতে হবে। দূরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হলে অনেকেই ডাক্তার বা হাসপাতালকে অবহিত করবে না। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়বে।

(৬) করোনাকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মীর মতো অতিজরুরি সেবাপ্রদানকারী শ্রমিকদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যবস্থা করতে হবে।

 

দেশের শ্রমিক-পেশাজীবী মানুষদের শ্রম ও দায়িত্বশীলতা বিবেচনা করে আমাদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে আপনি ও মন্ত্রণালয় দ্রুত উদ্যোগী হবেন, এ আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।

 

ধন্যবাদসহ,

 

শাহ্ আতিউল ইসলাম,

সভাপতি, ট্রাস্টি বোর্ড, বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)