প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ্ আতিউল ইসলামের প্রতি বাশির শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা
বাশি | ২৪ এপ্রিল ২০২১ | ০২:৫৯
বাশি

বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)-র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ্ আতিউল ইসলাম
আজ ২২ অক্টোবর ২০২০ বৃহস্পতিবার ভোর ৩:৩০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। যোহরের নামাজের
পর জানাজা শেষে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আজ বিকালে তাঁকে শায়িত করানো হবে।
বাশির সকল কর্মী, সংগঠক, শুভাকাক্সক্ষী ও উপদেষ্টাগণের পক্ষ থেকে শাহ্ আতিউল ইসলামের
প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। বাশিকে দিক নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি অজীবন
দেশের শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন। নির্লোভ, উদার, প্রগতিশীল,
নিষ্ঠাবান ও কর্মময় মানুষ হিসেবে অনাড়ম্বর অথচ গৌরবময় জীবনের যে দৃষ্টান্ত আতিউল
ইসলাম রেখে গেলেন, সেজন্য তিনি প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
গত ৩ অক্টোবর ২০২০ করোনায় আক্রান্ত হয়ে শাহ্ আতিউল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি হন। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় তাঁকে
হাসপাতালের আইসিইউ-তে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।
শাহ্ আতিউল ইসলাম বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন
করছিলেন। একজন মনোযোগী, নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী, বিচক্ষণ ও সফল শিক্ষক হিসেবে তিনি
ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীগণ
যেভাবে তাঁর সেবা-শুশ্রুষা করেছেন, সেজন্য আমরা তাঁদের জানাই পরম কৃতজ্ঞতা। তাঁর
ছাত্রছাত্রী, ট্রেড ইউনিয়ন ও রাজনৈতিক সহকর্মী এবং বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাক্সক্ষীগণ তাঁর
সেবার ত্রুটি হওয়ার সুযোগ দেননি। তাঁদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি এ সর্বমাননীয় শ্রমিক নেতার পরিবারের সদস্যদের যাঁরা
শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও মুক্তির দীর্ঘ সংগ্রামে তাঁর সাথে থেকে অপরিসীম ত্যাগ ও নিষ্ঠার
পরিচয় দিয়েছেন।

জীবনী
শাহ্ আতিউল ইসলাম ১৯৪৩ সালের ১২ আগস্টে বর্তমান ঝালকাঠি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৫৯ সালে খুলনা জেলা স্কুল থেকে মেট্রিক ও ১৯৬১ সালে খুলনার ব্রজলাল (বিএল) কলেজ
থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। ওই কলেজ থেকে বিএসসি শেষ করে পরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে
ভর্তি হন। ১৯৬২-৬৫ সালে বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত থাকার কারণে প্রথম
ছাত্রাবাস চ্যুত হন এবং পরে ছাত্রত্ব হারান। সে সময় তিনি ঢাকায় প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন
পাইওনিয়ার যুবলীগের কর্মকা- বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৮ সালের পর শ্রমিক
কিষাণ সংঘ, যা পরে কমিউনিস্ট কর্মী সংঘে রূপ নেয়, এবং আরো পারে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট
পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন গঠনে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা
পালন করেন। ১৯৭১ সালে শ্রমিক কিষাণ কর্মী সংঘের বাহিনীর হয়ে দেশের ভেতরে থেকে
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এ বাহিনী বাকেরগঞ্জ, মাদারীপুর, যশোরের নাভারণ ও শার্শায় দখলদার

পাকিস্তানী ও স্থানীয় রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই চালায়। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকার
রায়ের বাজার স্কুলে এবং পরে খুলনার ফাতিমা হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন। পরে ঢাকার গোপীবাগ
এলাকাতে আমৃত্যু শিক্ষকতা করে গেছেন। ২০১২ সালে শ্রমিক আন্দোলনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান
হিসেবে তিনি সংবিধান বিশেষজ্ঞ, মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিক অ্যাডভোকেট আবদুস সালামের
সাথে উদ্যোগী হয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)। এ প্রতিষ্ঠানটি
শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও স্বাবলম্বী শ্রমিক আন্দোলনের অগ্রগতি সাধনে শ্রমিকদের
প্রশিক্ষণ, প্রচার-প্রচারণা, গবেষণাসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।