মজুরি সংক্রান্ত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন: ট্রেড ইউনিয়ন ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বাড়ানোর আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ০৯ অক্টোবর ২০১৫ | ০৪:৪৯
‘মজুরি মানুষ সংগ্রাম’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মোড়ক উন্মোচনের পর বইয়ের কপি হাতে দাঁড়িয়েছেন উপস্থিত আলোচক ও বক্তারা। ঢাকার পরীবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে আজ শনিবার আয়োজিত হয়েছিল অনুষ্ঠানটি। ছবি: বাশি

বাংলাদেশের শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে এবং তাদের মানবিক জীবনযাপন নিশ্চিতের জন্য ট্রেউ ইউনিয়ন আন্দোলনের পাশাপাশি কর্মীদের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বাড়ানো দরকার বলে মনে করছেন ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের নেতারা।

‘মজুরি মানুষ সংগ্রাম’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, শনিবার, শ্রমিক আন্দোলনের সংগঠকেরা বলেন, শ্রমিকদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের প্রয়োজন। আর সে আন্দোলনে রসদ সরবরাহের জন্য দরকার বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার।

বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)-এর প্রথম প্রকাশনা ‘মজুরি মানুষ সংগ্রাম’-এর মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাশির অছি পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম। সভার শুরুতে সংগঠনের অন্যতম অছি গোলাম মুর্শেদ সংগঠনের কার্যবিবরণী পেশ করেন।

আবদুস সালাম বলেন, বাংলাদেশে শ্রমিক আন্দোলনে তিন ধরনের হস্তক্ষেপ হয়। প্রথমত মালিকপক্ষ থেকে, দ্বিতীয়ত সরকার এবং তৃতীয়ত শ্রমিক শ্রেণির পক্ষের শক্তি হওয়ার দাবিদার রাজনৈতিক দলগুলো হতে। অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণে মুক্তচিন্তার শক্তিশালী সংগঠন গড়ে উঠছে না।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি সহিদুল্লা চৌধুরী বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের ওপরে রাষ্ট্র ও মালিকপক্ষ সব সময়ই চাপ সৃষ্টি করে এসেছে। এ আন্দোলনকে যদি এখনও চালিয়ে নিতে হয়, তবে রাষ্ট্র ও মালিকদের চাপ মোকাবেলা করেই তা করতে হবে। শ্রমিক আন্দোলনে জয় লাভের জন্য সময়োচিত কৌশল গ্রহণের ওপরে জোরারোপ করেন এ প্রবীণ নেতা।

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন তাঁর বক্তব্যের শুরুতে এমন একটি বই প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউটকে (বাশি) ধন্যবাদ দেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

জাতীয় গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামীম ইমাম বলেন, কেবল মজুরি, কর্মপরিবেশের দাবি আদায় হওয়াই যথেষ্ট নয়; শ্রমিক শ্রেণির মুক্তির জন্য উৎপাদনের উপকরণের ওপরে শ্রমিকদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ কায়েম হওয়া দরকার।

গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ফিরোজ আহমেদ বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের বর্তমান অবস্থানকে ব্যাখ্যা করেন। তিনি ইতিহাসবিদ এরিখ হবসবমের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে দেখান যে, ১৮৫০ থেকে ১৯০০ সালের মধ্যে শ্রমিক আন্দোলন অসংগঠিত ছিল বলেই ইংল্যান্ডে তাদের মজুরি ছিল কম এবং সে সময় শেয়ার বাজার ধসের মতো ঘটনাও ঘটত অহরহ। বাংলাদেশের সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও শ্রমিকদের দুরাবস্থার জন্য শ্রমিক আন্দোলনের দুর্বলতাকে তিনি দায়ী করেন। 

গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির আহ্বায়ক তাসলিমা আখতার শ্রমিক আন্দোলনের বিকাশে শ্রমিক সংগঠনগুলোর একতার ওপরে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলো ঐক্যবদ্ধ না হলে, দাবি আদায় অসম্ভব।

গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের নেতা শহীদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের সবলতা-দুর্বলতা খুঁজে বের করতে আন্দোলনের খুঁটিনাটি যথাযথভাবে অনুসদ্ধান ও অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।

ঢাকার পরীবাগের ‘সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে’ অনুষ্ঠিত আলোচনাটি সকাল ১১.৩০ মিনিটে শুরু হয়ে দুপুর ১.৩০ পর্যন্ত চলে। সদ্য প্রকাশিত বইটি একুশে বইমেলায় সংহতি প্রকাশনের ১৫৫ নং স্টলে বিক্রিত হচ্ছে বলেও জানানো হয়। সভায় উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউটের (বাশি) নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইসরাত জাহান।