বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউটের (বাশি) আয়োজনে মে দিবস উদযাপিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ০৯ অক্টোবর ২০১৫ | ০৪:৫২
বাশির মে দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে গান গাইছে দল ‘হযবরল’। ছবি: বাশি

ঢাকা শহরে মে দিবস উদযাপনকে জাতীয় প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকাতে সীমাবদ্ধ না রেখে পাড়ায়, মহল্লায় ও অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)। মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুক্রবার সংগঠনের অছি পরিষদের সদস্য গোলাম মুর্শেদ এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি) তার ‘যৌথতা’ কর্মসূচির অধীনে ‘লোকালয়ে’ মে দিবস অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ১ মে ২০১৫, শুক্রবার, ঢাকার মিরপুরে এক ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে শ্রমিক-পেশাজীবী এবং তাদের পরিবার্ ও সজ্জনদের নিয়ে আলোচনা, আবৃত্তি ও গানে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয় মে দিবস।

অনুষ্ঠানের মঞ্চ সাজানোতে সহযোগিতা করেছে মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ই-ব্লকের যুবকদের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘সবুজ বাংলাদেশ সামাজকল্যাণ অঙ্গন’।

সান্ধ্য অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা করেন সবুজ বাংলাদেশ সমাজকল্যাণ অঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল ইসলাম সোহাগ।

গোলাম মুর্শেদ বলেন, ঢাকা শহরের গুটি কয়েক স্থানে মে দিবস উদযাপিত হওয়ায় শ্রমিক সমাজের বড় অংশটি বিচ্ছিন্ন থেকে যাচ্ছে। তাই মে দিবস উদযাপনকে পাড়ায়, মহল্লায়, অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাশি। যুথবদ্ধ হবার অঙ্গীকারে স্থানীয় সংগঠনকে সাথে নিয়ে বাশি আয়োজন করেছে অনুষ্ঠানের।

সামনের বছরগুলোতে মিরপুরের অধিবাসীরা তাদের এলাকায় মে দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন গোলাম মুর্শেদ। তিনি বলেন, আগামী বছর বাশি কোনো নতুন এলাকাতে গিয়ে সেখানকার জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে মে দিবস উদযাপনের আয়োজন করবে।

ওয়াহিদুল ইসলাম বাশির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তাঁর সংগঠনের একটি জ্ঞানভিত্তিক ও পরিচ্ছন্ন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সামনের দিনে বাশির সঙ্গে নতুন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)-র অন্যতম নির্বাহী এবং মিরপুর এলাকার সংগঠক আশরাফুল ইসলাম নোমান।

বুলবুল হোসেন ভুঁইয়া দরাজ কণ্ঠে আবৃত্তি করেন ‘হরবোলা পাখি আজ’, ‘পৎ পৎ উৎসাহে পতাকাটা উড়ছে’ এবং আরো কয়েকটি কবিতা। এরপর শওকত আলী তাঁর সহজাত নৈপুণ্যে আবৃত্তি করেন তারাপদ রায়ের কবিতা ‘দারিদ্র্যরেখা’।

গানের দল ‘হযবরল’ শুরুতেই রবীন্দ্রনাথের ‘মুক্ত করো ভয়’ গেয়ে পরিবেশনা শুরু করে। এরপর ‘ধুক ধুক শব্দে মন চায় বুঝতে’র মতো আরও বেশকিছু গান গেয়ে শ্রোতাদের মুদ্ধ করে।

বাউল মুকুলের দল ‘মা ভৈ’ তাদের নিজস্ব গান ছাড়াও কয়েকটি লোক সঙ্গীত পরিবশন করে। ‘আমার রসের বন্ধুর রস বোঝা দায়’, ‘ভেনেজুয়েলা’, ‘হাল ছেড়া পালে চলে ইতিহাস’ এবং ‘একদিন হেথায় ছিল ফসলের ক্ষেত’ ইত্যাদি গানে শ্রোতাদের উদ্বেলিত করেন ‘মা ভৈ’-এর গায়কেরা।

একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় ব্যান্ড শিল্পী ইমরুল বাবু, সঞ্জয় বড়ুয়া, মাজহারুল বাবু প্রমুখ। পুরোনো দিনে ‘আমায় ডেকো না’, ‘আগে যদি জানিতাম’, ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ ইত্যাদি গানে মঞ্চ মাতান ইমরুল বাবু।

সবশেষে রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশনসহ বিশ্বের বিভিন্ন কারখানা ও কর্মযজ্ঞের যে শ্রমিকেরা সভ্যতার বিকাশে কাজ করতে গিয়ে এবং অধিকার আদায়ের সংগ্রামে খুন-নির্যাতন-শোষণের শিকার হয়ে অকালে প্রাণ বিলিয়েছেন, সে শহীদ শ্রমিকদের স্মৃতির উদ্দেশে উড়ানো হয় ‘ফানুস।’

অনুষ্ঠানে শিশু থেকে বুড়ো পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা-লিঙ্গের শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত।