জাতীয় ন্যূনতম মজুরির জন্য চাই আইনি কাঠামো ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২০ এপ্রিল ২০১৬ | ১৪:২৭
গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)-র উদ্যোগে ঢাকার মনি সিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্ট ভবনের মনির-আজাদ সেমিনার কক্ষে আয়োজিত “জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সমস্যা” শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন বাশির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপত

এখনকার জাতীয় ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থাকে খুবই সময়োপযোগী ও প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে বক্তারা বলেছেন, এর জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি ও ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন একান্ত প্রয়োজন।

বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি) আয়োজিত “জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের সমস্যা” শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় বক্তারা গতকাল শুক্রবার [১৫ এপ্রিল ২০১৬]এ কথা বলেন।

ঢাকার মনি সিংহ-ফরহার স্মৃতি ট্রাস্ট ভবনের মনির-আজাদ সেমিনার কক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তারা বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে শ্রমিক সংগঠক, গবেষক ও গণতান্ত্রিক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাশি ট্রাস্টি বোর্ড ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি শাহ্ আতিউল ইসলাম এবং মূল প্রবন্ধ পেশ করেন বাশির ট্রাস্টি বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ গোলাম মুর্শেদ।

আলোচনায় অংশ নেন: আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা; ইকতেদার আহমেদ, সাবেক সচিব ও সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় নিম্নতম মজুরি বোর্ড; চৌধুরী আশিকুল আলম পটল, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ এবং সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন; রাজেকুজ্জামান রতন, সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট এবং কেন্দ্রীয় নেতা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ); জোনায়েদ সাকি, সাধারণ সম্পাদক, ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন এবং প্রধান সমন্বয়কারী, গণসংহতি আন্দোলন; তাসলিমা আখতার লিমা, সভাপ্রধান, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি; অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস); শহীদুল ইসলাম সবুজ, অর্থ সম্পাদক, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরাম; মাহমুদুল হাসান সুমন, অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চলচ্চিত্র পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী ফৌজিয়া খান।

শাহ আতিউল ইসলাম বলেন, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ব্যবস্থা চালু করার জন্য সরকারকেই প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ সংবিধান অনুযায়ী শ্রমিকসহ সকলের জীবনরক্ষার ও নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারেই। তিনি দেশের সকল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, শ্রমিক সংগঠন ও আগ্রহী ব্যক্তিবর্গকে যৌথভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

শ্রমিক সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে একমত করতে যৌথ কর্মশালা আয়োজনের পরামর্শ দেন আনু মুহাম্মদ। তিনি বিভিন্ন গবেষণা কর্ম পরিচালনারও প্রস্তাব দেন।তিনি বলেন, জাতীয় ন্যূনতম মজুরির দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে একমত হওয়া মোটেই শক্ত ব্যাপার নয়। তারা চাইলেই তা সম্ভব। কিন্তু এরপরও কেন তা হচ্ছে না, তা ভেবে দেখা দরকার।

ইকতেদার আহমেদ বলেন, এ জন্য আইনী কাঠামো একান্ত প্রয়োজন। শ্রম আইনে কেবল ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পখাতের শ্রমিকদের জন্য মজুরি নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। অথচ বাকি শ্রমিকদের মধ্যে কারো কারো মজুরি নির্ধারিত হয় সরকারের নির্বাহী আদেশে সৃষ্ট কমিশনের মাধ্যমে।

অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের জন্য যে কোনো উদ্যোগে বিলস আগের মতোই অংশ নেবে এবং সাধ্যমত কাজ করবে।

আশিকুল আলম বলেন, মালিকেরা এখন খাতওয়ারি মজুরিই দিতে পারছে না। জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে বা বাস্তবায়ন তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়।

রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নির্ণায়ক হিসেবে ‘মালিকদের সক্ষমতা’ বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত নয়। কারণ, সক্ষমতা বাড়লেই মালিক বেতন বাড়িয়ে দেন এমন নজির যেহেতু নাই, তাই ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রও তাই এ বিষয়টি বিবেচনা করা ঠিক নয়।

জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তি যদি একজোট হয়, তবে জাতীয় ন্যূনতম মজুরির মতো অনেক দাবিই আদায় করা সম্ভব হবে। তিনি শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রস্তাব দেন।

মাহমুদুল হাসান সুমন বলেন, কয়েক বছর আগে তাঁরা এক গবেষণায় দেখেছেন, অধিকাংশ পোশাক শ্রমিক পরিবারে কমপক্ষে দুজন চাকরিজীবী। কারণ একজনের বেতনে চার/পাঁচজনের পরিবার চলে না। আবার পোশাক খাতের মজুরির বিষয়টিকে দেশের অন্যান্য খাত থেকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা উচিত। কারণ তা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইনের অন্তর্ভুক্ত বিষয়।