ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানার প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড বিষয়ে বাশির বিবৃতি
১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ | ০০:০০

বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)

মিরপুর, ঢাকা

ওয়েবসাইট: www.bashibd.com

ফোন: 01863-700737

ইমেইল: bashipost@gmail.com

 

ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানার প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড বিষয়ে বাশির বিবৃতি

 

বিবৃতি। ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

 

টঙ্গীর ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানার অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু এবং ৭০ জন শ্রমিকের আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি) নিন্দা, ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করছে। অতীতে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেওয়া এবং শ্রমিকদের প্রতি সরকার ও কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে এ ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করে বাশি।

 

সংবাদমাধ্যমে সূত্রে জানা গেছে, ঈদে ছুটি দেওয়ার কথা বলে শ্রমিকদের গত তিনদিন ধরে অবিরত কাজ করানো হচ্ছিল। এমন অমানবিক ও দুঃসহ পরিস্থিতি শুধু কারখানার পরিবেশকেই অনিরাপদ করে তোলে এবং সুযোগ করে দেয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার। তাছাড়া দেশের প্রচলিত শ্রম আইন অমান্য করে একজন নিয়োজক কী করে শ্রমিকদের অতিরিক্ত সময় খাটানোর সাহস রাখেন, তাও আমলে নেওয়া প্রয়োজন।

 

আজকের এ দুর্ঘটনায় এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, শ্রমিকদের জন্য সুষ্ঠু ও নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করা নিয়ে যত তোড়জোড় হয়েছে, তা কেবল কথাতেই, কাজে নয়। হতাশার ব্যাপার এই যে, এখন পর্যন্ত কিছু পোশাক ও বস্ত্রখাতের কারখানায় আগুন ও ভবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৎসামান্য কারখানা পরিদর্শন হয়েছে। কিন্তু দেশের হাজার হাজার কলকারখানা রয়ে গেছে আওতার বাইরে।

 

সম্প্রতি কর্মস্থল নিরাপদ করতে শুধু অগ্নিকাণ্ড বা ভবন ধস ঠেকানো নিয়ে আলোচনা বা উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। অথচ আদর্শ কর্মস্থলের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য শর্ত যেমন ট্রেড ইউনিয়ন চর্চার অবাধ স্বাধীনতা, পয়লা সপ্তাহে মজুরি-বোনাস লাভ, জবরদস্তিমূলক কাজ করানো বন্ধ করা, শিশুশ্রম নির্মূল, কর্মস্থলে বৈষম্য দূরীকরণ ইত্যাদি নিয়ে অগ্রগতি নেই বললেই চলে। বাশি মনে করে, এসব শর্ত নিশ্চিত করার সঙ্গে কর্মস্থলকে নিরাপদ করার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

 

গত তিন বছরে প্রায় ডজনখানেক দুর্ঘটনায় দেড় হাজারের বেশি শ্রমিকের প্রাণ হারানোর পর আবার এমন একটি প্রাণঘাতী ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটার অর্থ হলো শত বিক্ষোভ-আলোচনা-প্রচার শ্রমিকদের নিরাপদ ও শোভন কর্মস্থল নিশ্চিতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

 

যখন পর্যন্ত নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করা না যায়; তখন পর্যন্ত শ্রমিক সংগঠন, সরকার, মালিকপক্ষ, সাহায্য সংস্থা বা শ্রম ইনস্টিটিউটগুলোর কৃতিত্ব জাহির করা যেমন সাজে না, তেমনি তাদের কাজও ফুরিয়ে যায় না। বরং নতুন উদ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতায় পরিকল্পিত উপায়ে কাজ করার অবশ্যকতা দেখা দেয়।

 

বাশি আশা করে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাসম্ভব দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে; কর্মস্থল হবে নিরাপদ ও শোভন যাতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে; ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকেরা তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ পেতে হেনস্তা বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার শিকার হবে না এবং শ্রমিক পুনর্বাসন বা দুর্ঘটনা এড়াতে যেকোনো প্রকল্প হবে দীর্ঘমেয়াদী।

 

শাহ আতিউল ইসলাম (সভাপতি) ও

অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম (সাধারণ সম্পাদক)

ট্রাস্টি বোর্ড,

বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)