আমাদের আদর্শ
আমরা বিশ্বাস করি,

    শ্রমিক হওয়া গর্বের বিষয়। কাজের বিনিময়ে মজুরি গ্রহণ এবং ন্যায্য মজুরির জন্য দরকষাকষিতে লজ্জার কিছু নেই।

    সচেতন শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের একটি বড় দায়িত্ব হলো জনসাধারণকে বিভিন্ন তৎপরতার মাধ্যমে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। দারিদ্র্যমুক্ত, শোষণহীন, সম্পদময় ও সুখী জীবন সব শ্রমিক-কৃষক ও মেনহতি মানুষের জন্মগত অধিকার। এ অধিকার থেকে যারা তাদের বঞ্চিত রাখছে, তারাই অত্যাচারী-শোষক শ্রেণির মানুষ। এর বিরুদ্ধে সমস্ত শক্তি নিয়ে কাজ করে যাওয়া প্রতিটি সচেতন মানুষের কর্তব্য।

    মানুষে-মানুষে বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি শ্রমিকে-শ্রমিকে [যেমন: কায়িক ও মানসিক] বৈষম্য দূর করার জন্যও সংগ্রাম জারি রাখা প্রয়োজন।

    জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, বয়স, জাতীয়তা ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সংগঠিত হওয়া ও দরকষাকষি করার স্বাধীনতা, নিরাপদ ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ এবং জীবনযাপন মজুরি পাওয়া সব শ্রমিকের অধিকার।

    আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সমঝোতাসমূহ; কর্মক্ষেত্রে মৌলিক নীতি ও অধিকার সম্পর্কে ১৯৯৮ সালে আইএলওর ঘোষণা; বিশ্ব মানবতা সনদের ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪ ও ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদে শ্রমিকদের ন্যূনতম অধিকার নির্দিষ্ট হয়েছে। কর্মক্ষেত্রের আকৃতি বা অবস্থা যা-ই হোক না কেন, প্রতিটি শ্রমিকের ন্যূনতম অধিকার নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

    ন্যায়বিচার পাওয়া এবং যেকোনো প্রয়োজনে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ থাকা, প্রতিটি শ্রমিকের অধিকার।

    সন্তান পালন, চিকিৎসা, শিক্ষালাভ ইত্যাদি মৌলিক প্রয়োজন বাবদ পদ-পদবি নির্বিশেষে সব শ্রমিকের সমান মজুরি ও ভাতা পাওয়া বাঞ্ছনীয়।

    নিয়োজক, সরকার, আইন, প্রতিরক্ষাবাহিনী এবং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত শ্রমিকদের “মানুষ” হিসেবে গণ্য করা এবং তাদের “মানবিক মর্যাদার” প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।

    বিভিন্ন জাতীয়-আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকেরা যেসব অধিকার পাওয়ার কথা, সেগুলো সম্পর্কে জানার অবাধ সুযোগ থাকা বাঞ্ছনীয়। এজন্য শ্রমিকেরা প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ লাভের অধিকারী।

    শ্রমিকেরা তাদের অধিকার ঠিকমতো বুঝিয়ে পাচ্ছে কিনা, জনগণ তা জানার পূর্ণ অধিকার রাখে। শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের প্রয়োজনে যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে যোগ দেওয়া বা চাপ সৃষ্টি করা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার।

    নিজেদের সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকার অধিকার আছে শ্রমিকদের। নিয়োজক বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের চাপিয়ে দেওয়া ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গকে অমান্য ও অস্বীকার করা ন্যায়সঙ্গত।

    কারখানার বা কর্মস্থলের বড় কোনো সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে নেওয়া সাধারণ সৌজন্যতা

    সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের দায়িত্ব হলো এমন আইন পাশ করা যাতে, শ্রম আইন ও আইএলও’র সমঝোতাগুলো অমান্য করাই অপরাধ বলে বিবেচিত হয়

    নিয়োজকদের দায়িত্ব হলো এটা নিশ্চিত করা যে, শ্রমিকদের সঙ্গে ভালো আচরণ করাটা একটি সামাজিক আদর্শ

    কর্মপরিবেশ নিয়ে নিয়োজকদের স্বচ্ছতা থাকতে হবে। তাদের বাজারজাতকরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে কোথাও এমন আয়োজন থাকা উচিত নয়, যাতে শ্রমিকেরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

    শ্রমিকদের মানবিক জীবন ও মর্যাদা রক্ষায় বিভিন্ন গণসংগঠনের সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়নসমূহের জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগীর ভূমিকা পালন বাঞ্ছনীয়। এ জন্য পরস্পরের ভিন্ন কাজ ও ভূমিকা থাকার পরও পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, গঠনমূলক সমালোচনা ও আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।

    যেসব লিঙ্গীয় সমস্যা অধিকারহরণকে সহজতর করে তোলে কিংবা লিঙ্গ সংক্রান্ত যেসব দৃষ্টিভঙ্গী শ্রমিকদের বঞ্চনাকে বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে, সেসবের বিরুদ্ধে সংগ্রাম জারি রাখা জরুরি।

    ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, ঠিক-বেঠিক নির্ধারণে সাধারণ মাপকাঠি হলো: অন্যের যে আচরণে বা কাজে আমি কষ্ট পাই বা ক্ষতিগ্রস্ত হই, তা অন্য কারও সঙ্গে করাই অন্যায়, ক্ষতিকর, খারাপ ও বর্জনীয়।