হতে পারেন স্বেচ্ছাসেবক

শ্রমজীবী মানুষেরা যাতে অন্তত ন্যূনতম মাত্রায় মানবিক জীবনধারণের সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যে কাজ করে বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটিউট (বাশি)। এই ন্যূনতম মাত্রাটি নির্ধারিত হয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সমঝোতা সমূহ, বিশেষত ১৯৯৮ সালে ‘কর্মক্ষেত্রে মৌলিক নীতি ও অধিকার সম্পর্কিত’ আইএলও’র ঘোষণা, এবং সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং বাংলাদেশের সংবিধানের ওপরে ভিত্তি করে।

এ জন্যে বাশি বিভিন্ন কাজ করে। যার মধ্যে শ্রমিকদের প্রশিক্ষিত করা, বই-পুস্তক প্রকাশ, স্কুল পরিচালনা, গবেষণা, আন্দোলন-প্রতিবাদ, সাহিত্য-সংস্কৃতি উৎসাহিতকরণ থেকে শুরু করে ট্রেড ইউনিয়ন ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে আন্তসম্পর্ক গড়ে তোলার মতো বহু কাজ অন্তর্ভুক্ত।

বাশিতে দু ধরনের স্বেচ্ছাসেবকের কাজের সুযোগ আছে: পেশাদার স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ স্বেচ্ছাসেবক।

ক. পেশাদার স্বেচ্ছাসেবক:

পেশাদার কাজের সুযোগ আছে নিম্নোক্ত বিশেষ ক্ষেত্রগুলোতে:

১. গবেষণা

২. প্রশিক্ষণ

৩. শিক্ষাদান

৪. সাংগঠনিক

৫. স্বাস্থ্যসেবা

৬. আইনি সহায়তা

১. গবেষণা: প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণা পদ্ধতি বাছাই করে, অর্থাৎ মৌলিক, ফলিত, গুণগত বা পরিমাণগত যেকোনো পদ্ধতিই হোক, শ্রম, শ্রমিক ও শিল্প বিষয়ে গবেষণা করা। শ্রমিকদের অবস্থা, তাদের সংগ্রাম-সংকট-অর্জন, শ্রম আইনসহ অন্যান্য আইন, রাষ্ট্র-উদ্যোক্তা-বণিক ও শ্রমিকের মধ্যকার সম্পর্ক ইত্যাদি গবেষণার মূল উপজীব্য। অর্থনীতি, আইন, ইতিহাস, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, নৃবিজ্ঞান, ভাষা ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ের পেশাদার ব্যক্তিদের করবার মতো আছে অফুরন্ত কাজ।

২. প্রশিক্ষণ: প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা থেকে শুরু করে কর্মশালা আয়োজন এবং তা পাওয়ার পর প্রশিক্ষণার্থীরা মাঠপর্যায়ে কী ধরনের সফল্য অর্জন করছে, তা মূল্যায়ন পর্যন্ত সবই রয়েছে এর আওতায়। শ্রমিকদের আইন-অধিকার ও সংগঠন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান হলো মূল লক্ষ্য।

৩. শিক্ষাদান: সাধারণ শিক্ষা ও ইউনিয়ন শিক্ষা এর দুটি ধারা। এর প্রয়োজনে পাঠ্যক্রম তৈরি ও তা বাস্তবায়ন করা এর অন্তর্ভুক্ত।

৪. সাংগঠনিক: শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্য সমানে রেখে সংগঠন গড়ে তোলা, সেগুলোর বিকাশ সাধন এবং ঐক্যবদ্ধ করা হলো মূল উদ্দেশ্য।

৫. স্বাস্থ্যসেবা: প্রথম ধাপে রয়েছে শ্রমিক এলাকাগুলোতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। এছাড়া পেশাগত স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও রোগ প্রতিরোধ থেকে শুরু করে হাসপাতাল চালানো পর্যন্ত অনেক কাজ এর আওতাধীন।

৬. আইনি সহায়তা: শ্রমিকদের, বিশেষত ট্রেড ইউনিয়নের সংগঠকদের, আইনি পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান এবং শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ নেওয়ার মতো কিছু স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী তৎপরতা।

পেশাদার স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে আগ্রহীদের প্রতি অনুরোধ, বিস্তারিত ব্যক্তিগত তথ্য সমেত একটি আবেদনপত্র বা ইমেইল বাংলাদেশ শ্রম ইনস্টিটউটের (বাশি) ঠিকানায় পাঠিয়ে দিন। আবেদন গৃহীত হলে, প্রত্যেককে তাঁর নির্দিষ্ট দায়িত্ব বিশদভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। আশা করা হয় যে, পেশাদার স্বেচ্ছাসেবকেরা অন্তত এক বছর বা একটি নির্দিষ্ট কার্যক্রম শেষ হওয়া পর্যন্ত বাশির সঙ্গে কাজ করবেন।

দয়া করে খেয়াল রাখুন, এসব হলো পেশাদার স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য হাতেগোনা অল্প কয়েকটি কাজের উল্লেখমাত্র। যাঁরা তথ্যপ্রযুক্তি, ওয়েবসাইটের ডিজাইন, মানবসম্পদ, প্রশাসন, গণমাধ্যম ইত্যাদি কাজের সঙ্গে যুক্ত অথবা যিনি শ্রমিক নেতা, সংগঠক, শিল্পী, অথবা আইনজীবী, তাঁদের প্রত্যেকের জন্য বাশিতে রয়েছে অফুরন্ত কাজ। বাশির কাজে প্রত্যেকের নিজের মতো করে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।

খ. সাধারণ স্বেচ্ছাসেবক:

প্রযুক্তি-ভাষা-আইন ও নেতৃত্ব বিকাশ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করা; স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালানো; নথিপত্র অনুবাদ ও সম্পাদনা; বাশির বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনে হাত লাগানো; কিংবা নিজের সৃজনশীল দক্ষতাকে (গান, আঁকা, চলচ্চিত্র নির্মাণ ইত্যাদি)কাজে লাগিয়ে বহুকিছু করবার আছে সাধারণ স্বেচ্ছাসেবকদের। মনে রাখবেন, বাশির জন্য করা যায়, এমন কাজের সংখ্যা অশেষ। শুভ উদ্যোগের জন্য কেবল আপনার ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট।